সফল হতে দৈনিক কত ঘন্টা পড়ব, কতদিন পড়ব?

 সফল হতে দৈনিক কত ঘন্টা পড়ব, কতদিন পড়ব?

চাকরি পেতে প্রতিদিন কত সময় পড়াশোনা করতে হবে?

চাকরির জন্য ভালভাবে প্রস্তুতি নিবো কিভাবে?

কিভাবে শুরু করলে খুব দ্রুত চাকরির প্রস্তুতি শেষ হবে?


একজন চাকরি প্রার্থী উপরের প্রদিটা প্রশ্ন সব সময় করেন এবং ডিপ্রেশনে থাকেন চাকুরীর পড়াশোনা নিয়ে, আশা করছি এর পরে আর এই প্রশ্ন করবেন না, কারণ আজকে আমরা চাকরির প্রস্তুতি  নিয়ে বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করব।


পরিচয় পর্ব

-মো: রুহুল আমিন 

১ম স্থান, প্রশাসন ক্যাডার

৩৮ তম বিসিএস


নোটঃ এই লেখাটা সকল সরকারি চাকরি প্রার্থীদের জন্যই।


মূল বিষয়ে লেখার আগে কিছু কথা না বললেই নয়।

 প্রকৃতির নির্মম নিয়ম যে আমরা ব্যক্তিকে নয়, তাঁর অবস্থানকে কদর করি। সফলতা ও ব্যর্থতা এই দুটি সূচক দ্বারা একজন মানুষকে অনুকরণীয় বা বর্জনীয় হিসেবে নির্ধারণ করা একটা সরল সমীকরণ। খুব নিয়মানুবর্তী সাধনা করেও কেউ ব্যর্থ হলে ঐ ব্যক্তির প্রচেষ্টা ও কর্মপদ্ধতি উপেক্ষিত হয়। আমরা কেবল সফলদেরই শুদ্ধ ভাবি এবং তাঁদের পথে তাঁদের মত করেই চলতে চাই। ব্যার্থতার গল্প শোনার মানুষ নাই কিন্ত সফলতা অর্জনের  পরে তুমি যাই বলবে সেটাই হবে আদর্শ বাণী। তাই জীবনকে উপভোগ করতে হলে, মানুষের কদর/মূল্য পেতে হলে তোমাকে অবশ্যই সফল হতে হবে নয়ত যতই পড়াশোনা কর চাকরি না হলে তোমার মূল্য ১% নাই।


একাডেমিক পড়ালেখা অথবা চাকুরির প্রস্তুতি গ্রহণের ক্ষেত্রে সফলকাম কারো কাছে বহুল জিজ্ঞাসিত

 প্রশ্ন : আপনি দৈনিক কত ঘন্টা পড়তেন? কত দিন এভাবে পড়েছেন? আমার দিক থেকে এই প্রশ্নের উত্তর: দয়া করে দেখতে সুন্দর হলেও অন্যের পাদুকা পরে হাঁটতে যাবেন না, নিজের ফিটিং মত না হলে আপনি হোঁচট খেয়ে পড়ে যাবেন।


দুটি কনসেপ্ট থেকে ব্যাপারটা ক্লিয়ার করছি:

প্রথমত কনসেপ্ট

 আপনি যাঁকে প্রশ্নটি করছেন তিনি দৈনিক যতটুকু সময় ম্যানেজ করতে পেরেছেন এবং পরীক্ষার আগে যতদিন হাতে পেয়েছেন তা আপনার হাতে নাও থাকতে পারে। এমন হলে আপনি টেনে সময়কে দীর্ঘ করতে পারেন না। তাই, আপনার দৈনন্দিন জীবন থেকে পড়ালেখার জন্য কতটুকু সময় আপনি বের করতে পারবেন এবং সেটা কতটুকু কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারবেন সেটাই মুখ্য। 

অপরপক্ষে আপনার দৃষ্টিতে সফল কোন ব্যক্তি দৈনিক ৪ ঘন্টা করে ৩ মাস পড়ে লক্ষ্য অর্জন করেছেন শুনে আপনার পক্ষে দৈনিক ৮ ঘন্টা পড়ার মত ৬ মাস সময় থাকলেও কি আপনি তাঁকে অনুসরণ করতে গিয়ে বাকি সময় অপচয় করবেন?

দ্বিতীয় কনসেপ্ট

 অধিক গুরুত্বপূর্ণ। পড়ালেখার ব্যাপারটা শরীর ও মনের জটিল সমন্বয়ের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। এটি কেবল মস্তিষ্কের নিউরনের তথ্য ধারণ ও অনুধাবন সহায়তা কার্যক্রম দ্বারা সঙ্গায়িত মেধার প্রয়োগের বিষয় নয়। বস্তুত মেধা শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতার জটিল অথচ সুষম প্রয়োগ দ্বারা মূর্ত হয়ে ওঠে। জনে জনে জ্ঞানাহরণের দক্ষতা ভেদের জন্য কেবল মস্তিষ্কের ক্ষমতা দায়ী নয়, বহু সাইকোলজিক্যাল ও ফিজিওলজিক্যাল ফ্যাক্টর এটার সাথে জড়িত।


আপনি এবং আমি দুজন ভিন্ন ব্যক্তি। আমাদের সফলতার মাত্রা এক সমান হওয়ার জন্য শুধু স্টাডি টাইম সমান হওয়া যথেষ্ট নয়। সময়ের মাপে সমান সমান পড়ায় শেখার মাপে সকলের সমান পড়া হয় না। ভিন্ন ব্যক্তি একটি নির্দিষ্ট সময়ে সমান শিখতে পারেন না এবং সমান শিখতে একই পরিমাণ নেন না। কারণ স্টাডি টাইম এবং এর আউটপুটকে নিয়ন্ত্রণকারী বিষয় সমূহ প্রত্যক ব্যক্তির জন্য আলাদা ফল বয়ে আনে।


অনেক সময় আমরা বলি আপনি যে ভাবে পড়াশোনা করেছেন সে ভাবে একটা রুটিন করেদিন,

আপনি কোন কোন বিষয় পড়েছেন তা শেয়ার করুন,

আপনি কোন বই গুলো পড়েছেন তা আমাদের বলেন,

আসুন একটা ব্যাখা করে বলি।

 আমি যে বিছানায় ঘুমাই, যে খাবার খাই, যে আত্মীয় ও বন্ধুদের সাথে মিশি তা নিশ্চয়ই একদম আপনার মত নয়। আপনার আমার শারীরিক অবস্থা; যেমন, পরিপাকের ক্ষমতা, হার্ট বিট, অক্সিজেন সাপ্লাই, রক্তচাপ, রক্তের উপাদানের মাত্রা স্নায়ুবিক নিয়ন্ত্রণসহ অন্যান্য অঙ্গ সংস্থান জনিত ক্রিয়া পৃথক।

আমাদের নিজস্ব পারিবারিক সম্পর্কের ধরণ এক নয়। সামাজিক অবস্থানের দিক দিয়েও আমরা ভিন্ন। আপনি আপনার পরিবার, সমাজ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সহাবস্থান করা মানুষদের সাথে যে ধরনের সম্পর্ক মেইনটেইন করে চলেন, আমি স্বভাবই তার সাথে প্রাকৃতিকভাবে ভিন্নতা বজায় রাখি।

আমাদের অর্থনৈতিক অবস্থা, একাডেমিক ব্যাকগ্রাইন্ড, জীবনের উত্থান পতনের ইতিহাস, অতীতের ঘটনা-দুর্ঘটনা, ব্যক্তি ও পারিবারিক জীবনের প্রাপ্তি অপ্রাপ্তি, মনের অবস্থা এবং প্রত্যাশার চাপ আলাদা। আপনার কাছে যে বিষয় সহজ/কঠিন লাগে অথবা আপনি যে বিষয় পড়তে পছন্দ/অপছন্দ করেন তা আমার ক্ষেত্রে আপনার অনুরূপ না হওয়াই স্বাভাবিক। একদম টু দ্য পয়েন্ট বলতে গেলে আপনি বা আমি যাঁদের মত হতে চাই তাঁদের সাথে আমাদের সাদৃশ্য বিরল কিন্তু বৈসাদৃশ্য প্রচুর।


খাদ্যাভ্যাস, ঘুমের সময় ও নির্বিঘ্নতা, শারীরিক সুস্থতা ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, ব্যক্তিগত-পারিবারিক-সমাজিক সম্পর্কের অবস্থা, মানসিক-স্নায়ুবিক স্থিতিশীলতা, চাপ নেয়ার ক্ষমতা, একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড এবং নির্দিষ্ট পাঠ্য বিষয়ের প্রতি ব্যক্তিগত সহজ-কঠিন বোধ একেক জনের একেক রকম। কিন্তু পড়ালেখা করার ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের ক্ষমতার পাশাপাশি এই বিষয়গুলো সমান গুরুত্বপূর্ণ এবং একজন ব্যক্তির সাথে আরেকজনের এ সকল ক্ষেত্রে হুবহু মিল থাকা অসম্ভব।

তাই, আপনার বিষয় ভিত্তিক সবলতা-দুর্বলতা, নিজস্ব ফিজিক্যাল-মেন্টাল স্বাস্থ্যগত অবস্থা এবং বিদ্যমান দৈনিক ও সার্বিক সময়ের পরিমাপের নিরিখে আপনাকেই আপনার জন্য দরকারি পড়ার সময় নির্ধারণ করতে হবে। এই সময় বিন্যাস অন্য কারোর দ্বারা নির্ধারিত তো নয়ই এমনকি অন্য কারো অনুকরণেও হবে না, এটা অবশ্যই হতে হবে বিশেষভাবে আপনার দ্বারা আপনার জন্য পরিকল্পিত।

ব্যক্তিত্বসম্পন্ন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বনির্ভর ও সাহসী হয়ে উঠলে আপনি হবেন অপ্রতিরোধ্য। 

পড়াশোনার জন্য কোনো লিমিট টাইম নাই, পড়াশোনার জন্য কোনো লিমিট বই নাই, পড়াশোনার জন্য কোন সিলেবাস নাই, শুধু বলব বিগত সকল চাকরির প্রশ্ন ব্যাখ্যাসহ পড়ার বিকল্প নাই।


তবে হ্যাঁ পড়াশোনার জন্য নিজেকে নিজে তৈরি করতে হবে  এবং প্রচুর ‍ুনয়মিত পড়তে হবে


আত্মপ্রত্যয়ী ও আত্মবিশ্বাসীদের জন্য শুভকামনা।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

tnx for commet..

গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট দেখুন

( সিভিল সার্জনের কার্যালয়) স্বাস্থ্যসহকারী পদের প্রশ্ন সমাধান

             স্বাস্থ্যসহকারী পদের প্রশ্ন সমাধান           ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারীর নিয়োগ পরীক্ষা                  পদঃ স্বাস্থ্যসহকারী...

সবচেয়ে চাহিদার পোস্ট গুলো